চকরিয়ায় সেনা কর্মকর্তা তানজিম হত্যা মামলার রায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৯ জনের যাবজ্জীবন,
আলফাজ মামুন নুরী
কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজারের চকরিয়ায় আলোচিত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং নয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে পাঁচ আসামিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (পঞ্চম) আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন,ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব ডুমখালী এলাকার মো. হেলাল উদ্দিন, নাছির উদ্দিন, মোর্শেদ আলম এবং নুরুল আমিন। তাঁদের মধ্যে মোর্শেদ আলম বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
আদালতের অতিরিক্ত পিপি খুরশিদ আলম চৌধুরী জানান, দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আলামত পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় দিয়েছেন। একই ঘটনায় দায়ের হওয়া অস্ত্র মামলায়ও পৃথক রায় ঘোষণা করা হয়। সেখানে ১৩ আসামিকে দুটি ধারায় ১৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া এলাকায় ডাকাতি প্রতিরোধ অভিযানে অংশ নিতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন (২৩)।
ঘটনার দুই দিন পর সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আবদুল্লাহ আল হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে ১৭ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।পরে চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে একই আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে আরেকটি মামলা করেন। দীর্ঘ ৪ মাস তদন্ত শেষে গত বছরের ১৯ জানুয়ারি ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ৫২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। অপরদিকে অস্ত্র মামলায় সাক্ষ্য দেন ৪৬ জন। আসামিপক্ষে ৭ জন সাফাই সাক্ষী দিয়েছেন। আদালত সব সাক্ষ্য, জেরা ও আলামত বিশ্লেষণ করে এই রায় প্রদান করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী তৌহিদুল এহেছান বলেন, “সমাজে আইন-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও অপরাধ দমনে এ রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
রায় ঘোষণার সময় ১৮ আসামির মধ্যে ১২ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চারজনের মধ্যে তিনজন কারাগারে থাকলেও একজন এখনও পলাতক রয়েছেন।
নিহত লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জনের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। তিনি ২০২২ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে আর্মি সার্ভিস কোরে (এএসসি) কমিশন লাভ করেছিলেন।





