সারাদেশ

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের গাফিলতির কারনে স্কুল ছাত্রের জীবন হুমকির মুখে

একেএম বজলুর রহমান, পঞ্চগড়
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অবহেলার কারনে বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্রের জীবন হুমকির মুখে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলার কারনে চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্রী মুক্তার জীবন হুমকির মুখে। মুক্তার বাড়ি মৌমারী হাকিমপুর এলাকায়।
দেবীগঞ্জ উপজেলার দন্ডপাল ইউনিয়নের কালীগঞ্জের মৌমারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। ৫ জুলাই দুপুরে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে খেলা করছিল ছাত্র ছাত্রীরা। খেলার মাঝে পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্র সিয়াম সজোড়ে ধাক্কা মেরে চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্রী মোনালিসা আক্তার মুক্তাকে ইটের উপর ফেলে দেয়। পড়ার সাথে সাথে মুক্তা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তখন সাথে থাকা অন্য ছাত্র ছাত্রীরা টেনে নিয়ে বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার সময় রাস্তায় আবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। সাথে সাথে বমি করতে থাকে। বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর মুক্তার বাবা মমিনুল ইসলাম স্কুলে ছুটে আসেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকদের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। তিনি বলেন সহকারী শিক্ষক নিলুফার ইয়াসমিন, গোলাপী আক্তার, শেফালী সেন ও ডলি রায় প্রতিনিয়ত দেরি করে আসেন।
মেয়ের অবস্থার অবনতি হলে সাথে সাথে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল প্রেরন করে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রওশনারা বেগম প্রতি নিয়ত বিদ্যালয়ে দেরি করে যান আবার দুপুরের পরে চলে আসেন বিদ্যালয় থেকে। এমন অভিযোগ করছেন স্থানীয় লোকজন।
ছাত্রীর বাবা মমিনুল ইসলাম জানান, এ ঘটনা শুনার পর আমি তাড়াতাড়ি বাড়িতে গিয়ে দেখি মেয়ে বমি করতেছে। মেয়ের অবস্থা সংকটাপন্ন। সাথে সাথে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ডাক্তার রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলছে। আমি বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে স্কুলে পাইনি। তিনি নাকি দেবীগঞ্জে গেছে। তবে সহকারী শিক্ষকদের দায়িত্বে চরম অবহেলা দেখেছি। তারা স্কুলের পিয়ন অথবা ভ্যানে করে বাড়িতে দিয়ে পাঠাতে পারতো। আমার মেয়ের কোন কিছু হলে এর দায়ভার স্কুলের শিক্ষকদের।
স্থানীয়রা জানান, প্রধান শিক্ষক রওশনারা বেগম ও সহকারী শিক্ষক নিলুফার ইয়াসমিন, গোলাপী আক্তার, শেফালী সেন ও ডলি রায় প্রতিনিয়ত দেরি করে আসেন।
মৌমারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রওশনারা বেগম জানান, আমি সহকারী শিক্ষা অফিসারের কাছে গিয়ে ছিলাম। তারপর ব্যাংকে গিয়ে ছিলাম।
কালীগঞ্জ ক্লাষ্টারের দায়িত্বে সহকারী শিক্ষা অফিসার রাশেদুজ্জামান বলেন, আমার কাছে কোন অনুমতি নেননি।  সে বিনা অনুমতিতে বাহিরে অবস্থান করছে। আমি আজকে সারাদিন বিনয়পুর আর কালীগঞ্জে ছিলাম।
দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আজমল হোসেন জানান, আমি মৌমারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রওশনারা বেগমকে শিক্ষা অফিসে আসতে বলি নাই।আজকে কোন মিটিং ছিলনা। তারপরেও প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলতেছি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

সারাদেশ

মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হলেন সাব্বির আহমেদ সামাদ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে প্রচার সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন জেলার একনিষ্ঠ ও ত্যাগী ছাত্রনেতা সাব্বির আহমেদ সামাদ।
সারাদেশ

বদলে যাচ্ছে র‌্যাব: পরিবর্তন হচ্ছে নাম, লোগো ও পোশাক

নতুন রূপে আসছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ বাহিনীর নাম, লোগো ও পোশাক পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়,