নওগাঁর শৈলগাছী বাজারে গ্রাম আদালত বিষয়ে সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা ও ভিডিও প্রদর্শন
তৌফিক তাপস, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁ সদর উপজেলার শৈলগাছী ইউনিয়নের শৈলগাছী বাজারে গ্রাম আদালতকে আরও গতিশীল করা এবং সাধারণ মানুষের মাঝে আস্থা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা ও ভিডিও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) রাত ৮টায় বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (এভিসিবি) প্রকল্পের আওতায় এ আয়োজন করা হয়।
স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, বিচার প্রক্রিয়া এবং স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত ও সহজে ন্যায়বিচার পাওয়ার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এর আগে একই প্রকল্পের আওতায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নেও অনুরূপ সচেতনতামূলক ভিডিও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গ্রাম আদালতকে জনগণের দোরগোড়ায় কার্যকর ও আস্থার জায়গা হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন উপজেলা কো-অর্ডিনেটর যবনিকা রানী। তাঁর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ আয়োজন স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শৈলগাছী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন, ইউপি সদস্য মোঃ বেদারুল ইসলাম বাদল, ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী, উদ্যোক্তা, গ্রাম পুলিশসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী-পুরুষ।
অনুষ্ঠানে “নারীর ভরণ-পোষণ” বিষয়ক বাস্তবধর্মী একটি নাটিকা প্রদর্শন করা হয়। নাটিকাটিতে পারিবারিক দায়িত্ববোধ, নারীর অধিকার এবং স্থানীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহীভাবে তুলে ধরা হয়। নাটিকাটি দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং অনেকেই জানান, এমন আয়োজন সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আয়োজকরা জানান, সাধারণ মানুষকে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করা এবং আদালতমুখী করে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তিতে উৎসাহিত করাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যাতে কম খরচে ও সহজে বিচার পেতে পারে, সে বিষয়েও অনুষ্ঠানে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
আয়োজক হোসনে আরা স্বপ্না বলেন, “ভিডিও প্রদর্শনীর মাধ্যমে মানুষ বাস্তব চিত্র দেখে সহজেই বিষয়গুলো বুঝতে পারছেন। এতে গ্রাম আদালতের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ছে। ভবিষ্যতেও উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।”
শৈলগাছী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, “এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ গ্রাম আদালত সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাচ্ছেন। এতে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে এবং সচেতনতা বাড়বে। আমি চাই এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত চলমান থাকুক।”
এদিকে ভিডিও প্রদর্শনী দেখতে এলাকার নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। উপস্থিত দর্শনার্থীরা জানান, অনুষ্ঠানটি ছিল অত্যন্ত তথ্যবহুল ও সময়োপযোগী। অনেকেই গ্রাম আদালতের বিভিন্ন সুবিধা সম্পর্কে নতুনভাবে জানতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অনুষ্ঠিত হয় কুইজ প্রতিযোগিতা। এতে অংশগ্রহণকারী ১০ জন বিজয়ীর মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হলে উপস্থিতদের মাঝে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পুরস্কার পেয়ে উচ্ছ্বসিত হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী অংশগ্রহণকারীরা।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এমন ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও জনমুখী করবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।





