পাবনার ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষের ঘটনায় ১২ জন কারাগারে
সাব্বির আহমেদ,স্টাফ রিপোর্টার (পাবনা)
পাবনার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ চত্বরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রদলের মামলায় পাবনা জেলা জজ আদালতে জামিন চাইতে গেলে জামিন নামঞ্জুর করে ১২ জন ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১ টায় পাবনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (আমলি আদালত-২) এর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা বিচারক মোঃ মোরশেদুল আলম এ আদেশ দেন।
মামলায় আসামিদের মধ্যে ১২ জন ছাত্রশিবিরের কর্মীকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের জামিন নামঞ্জুর করে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। বাকিরা পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত আদালত এলাকা ছেড়ে চলে যান।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি খালেদ বিন পার্থিব বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ওই মামলায় ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি সজীব হোসেন, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদ হাসান, সেক্রেটারি আসাদুল ইসলাম সহ ৩১ জনকে নামীয় ও অজ্ঞাত আর ৬০-৭০ জনকে আসামী করা হয়।
ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা হলেন-সিয়াম, ফুজাইল, আরাফাত খাঁ, নাইম প্রমানিক, জনি, পারভেজ হোসেন বাঁধন, সুমন, তারেক হাসান, শান্ত খাঁ, হাশেম প্রমানিক ও হোসাইন
জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি পালনের সময় ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া, গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এসময় ছাত্রশিবিরের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ছাত্রদলের একটি অস্থায়ী কার্যালয় হামলা ও ভাঙচুর করে।
ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার বাদী বুরহান উদ্দিন আলভি জানান, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে ছাত্রদলের সাথে ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের ঘটনা পাবনা জেলা আদালতে জামিন চাইতে গেলে বিজ্ঞ আদালত জামিন নামঞ্জুর করে ১২ জন কর্মীকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা জামিনের জন্য উচ্চ আদালতে আপিল করব।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রদলের সভাপতি খালেদ বিন পার্থিব বাদী হয়ে মামলা করে। সেই মামলায় পাবনার জেলা জজ আদালতে জামিন চাইতে গেলে জামিন নামঞ্জুর করে বিজ্ঞ আদালত ১২ জন ছাত্র শিবিরের কর্মীকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি।




