সড়ক সংস্কারে অনিয়ম: ডিসি ও ইউএনও’র ঘটনাস্থল পরিদর্শন, তদন্তের আশ্বাস
মোঃ মিলন আলী, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভেলাজান এলাকায় একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কারে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে অনিয়ম প্রত্যক্ষ করার পর জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এলাকাবাসীকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই প্রেক্ষিতে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সম্প্রতি ভেলাজান প্রধান সড়ক হতে ভেলাজান আনছারিয়া ফাযিল মাদ্রাসা পর্যন্ত ২ কিলোমিটার রাস্তাটির সংস্কার কাজ শেষ হয়। তবে কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের তীব্র আপত্তির মুখে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ২২ এপ্রিল বুধবার বিকেলে সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তারা রাস্তার কাজের বিভিন্ন ত্রুটি ও নিম্নমানের উপকরণের ব্যবহারের অভিযোগটি প্রত্যক্ষ করেন। এসময় তারা স্থানীয়দের আশ্বস্ত করেন যে, অনিয়ম হয়ে থাকলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং এলাকাবাসীকে বিষয়টি বিস্তারিত জানিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিতে বলেন।
প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মৌখিক নির্দেশনার পর গত ২২ এপ্রিল রাতে এলাকাবাসীর পক্ষে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আনুষ্ঠানিক পত্র দাখিল করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ৩১ জন স্বাক্ষরিত অভিযোগে বলা হয়েছে, অত্যন্ত নিম্নমানের ইট, বালু ও পাথর ব্যবহার করায় কাজ শেষ হতে না হতেই রাস্তাটি বিভিন্ন জায়গায় খসে পড়ছে এবং কার্পেটিং এর পাথর উঠে যাচ্ছে। এবং আরসিসি ঢালাইয়ের গুণগত মান সিডিউল বহির্ভূত হওয়ায় পুকুর পাড়ের স্লোপিং (ঢাল) যথাযথভাবে করা হয়নি এ কারণে রাস্তাটি সামান্য বৃষ্টিপাতে ধ্বসে পড়তে পারে।
এছাড়াও অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, সিডিউল মোতাবেক রাস্তার যে প্রস্থ ও উচ্চতা থাকার কথা ছিল, বাস্তবে তা করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতে তদারকির অভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের ইচ্ছামতো দায়সারা কাজ সম্পন্ন করেছে।
এলাকাবাসীর পক্ষে মো. আল মোমিন, মো. মশিউর রহমান, মো. নাজমুল হক ও সুলতান মাহমুদ পাভেলসহ স্থানীয়রা জানান, সরকারি অর্থের এমন অপচয় মেনে নেওয়া যায় না।যেহেতু জেলা প্রশাসক ও ইউএনও মহোদয় নিজ চোখে অনিয়ম দেখে গেছেন এবং অভিযোগ দিতে বলেছেন, তাই আমরা আশা করছি খুব দ্রুত একজন নিরপেক্ষ তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়াও ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার আবেদনের অনুলিপি পোস্ট অফিসের মাধ্যমে নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দিনাজপুর কার্যালয়েও পাঠানো হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে এখন তদন্ত কমিটি গঠন ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।





