ধানের শীষের বিপক্ষে ভোট, বহিষ্কার থেকে জেলা কমিটির সহ-সভাপতি, আরেফিন আলীকে ঘিরে বিতর্ক
ধানের শীষের বিপক্ষে ভোট, বহিষ্কার থেকে জেলা কমিটির সহ-সভাপতি, আরেফিন আলীকে ঘিরে বিতর্ক
মামুন রাফী, নোয়াখালী
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’-এর বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে বহিষ্কৃত হওয়া ছাত্রদলের এক নেতাকে পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ পদে অন্তর্ভুক্ত করাকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীর হাতিয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আরেফিন আলী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের বিপক্ষে স্বতন্ত্র ‘ফুটবল’ প্রতীকের প্রার্থী তানভীর উদ্দিন রাজিবের পক্ষে কাজ করেন। এ সময় তিনি ওই প্রার্থীর সিপ (পোলিং) এজেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
তবে সম্প্রতি নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিতে তাকে সহ-সভাপতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে এমন পদে পদায়নকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অপরদিকে, অনেক নেতাকর্মী তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রকাশ্যে বিরোধী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা একজন নেতাকে কীভাবে এত দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হলো। কী প্রক্রিয়ায় তার বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হয়েছে তা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। অনেকেই এটিকে “অদৃশ্য শক্তির প্রভাব” বলে মন্তব্য করেছেন।
হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও নবগঠিত জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মাহমুদ বলেন, “দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কেউ আবার দায়িত্ব পেলে তা একনিষ্ঠ নেতাকর্মীদের জন্য কষ্টের ও দুঃখজনক।”
উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আব্দুল হালিম বলেন, “বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ছিল দলের শুদ্ধতার প্রতীক। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত যদি পরে উপেক্ষিত হয়, তাহলে শৃঙ্খলার জায়গাটা কোথায় থাকে? যারা দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছে, তাদের অবমূল্যায়ন করা হলে ভবিষ্যতে কেউ আর ত্যাগ স্বীকারে আগ্রহী হবে না।”
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফাহিম উদ্দিন বলেন, “সাংগঠনিক কার্যক্রমের উদ্দেশ্য কর্মীদের উৎসাহিত করা। সেখানে কেউ সরাসরি দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করে আবার গুরুত্বপূর্ণ পদে এলে তা কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করে। এতে কর্মীরা নিরুৎসাহিত হবে। কিছু নেতার ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণেই এমন সিদ্ধান্ত এসেছে বলে মনে হয়।”




