ভালোবাসার বিয়ে ভাঙল যৌতুকের চাপে-শিশুসন্তানসহ স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ, আদালতে মামলা
ওয়াসিম সেখ, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
ভালোবাসা দিয়ে শুরু হওয়া একটি দাম্পত্য জীবন শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও বিচ্ছেদের অভিযোগে। ভুক্তভোগী সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকা মিরপুর দক্ষিণ মোঃ আব্দুর রহমানের মেয়ে মোছাঃ রত্না খাতুন (৩৫)।
অভিযোগে জানা যায়, সরকারি চাকরির পরীক্ষা দিতে গিয়ে টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানার কমলাপাড়া গ্রামের মোঃ আব্দুল বাসেদের ছেলে মোঃ বিপ্লব হোসেন (৪০) এর সঙ্গে রত্না খাতুনের পরিচয় হয়। সেই পরিচয় থেকে প্রেম এবং পরে বিয়ে। ১৩ নভেম্বর ২০১৮ সালে চার লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে মাত্র ২ হাজার টাকা নগদে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
বিয়ের পর রত্না খাতুন স্বামীর বাড়িতে গিয়ে সংসার শুরু করেন। কিছুদিন পর তিনি গর্ভবতী হন এবং তাদের ঘরে জন্ম নেয় একটি কন্যা সন্তান মোছাঃ জান্নাতুল বুশরা (৫)।
কিন্তু সুখের সেই সংসারে অশান্তি নেমে আসে যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এক পর্যায়ে তার আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে আরও এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দাবিকৃত টাকা না পেয়ে ১৯ নভেম্বর ২০২২ তারিখে রত্না খাতুনকে তার নাবালিকা কন্যা জান্নাতুল বুশরাসহ স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রত্না খাতুন আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ইতিমধ্যে মামলাটির রায় হয়েছে ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, দুই বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারের পরোনা জারি হয়েছে, কিন্তু অভিযোগ রয়েছে গ্রেপ্তারির পড়ানা থাকার পরও পুলিশ তাকে ধরছে না,
এ বিষয়ে ঘাটাইল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন থানায় এসে বক্তব্য নেন।
এবিষয়ে বাদী পক্ষের আইনজীবী সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর শাকিল মোহাম্মদ শফিকুর হায়দার (রফিক সরকার) বলেন আগামী ১৩ ই মে তারিখ রয়েছে বাদী বিবাদীর জবানবন্দী নেয়া হবে। ইতিমধ্যে একটি মামলার রায় হয়েছে আসামির দুই বছর কারাদণ্ড হয়েছে।
আসামের পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামরুল হুদা বলেন একটি মামলার রায় হয়েছে, আরেকটি মামলা চলমান রয়েছে।
বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী ও তার পরিবার এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।





