পঞ্চগড়ে কাজ না করেই প্রকল্পের টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে
একেএম বজলুর রহমান, পঞ্চগড়
পঞ্চগড়ে কাজ না করেই প্রকল্পের সাড়ে ৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রকল্প সভাপতি আলমগীর হোসাইনের বিরুদ্ধে।
সরজমিনে কাজের কোন চিহ্ন না থাকলেও কাজ করার দাবী করছেন চেয়ারম্যান। কাজ না করে কিভাবে বিল প্রদান করলেন উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান। এ প্রশ্ন সচেতন মহলের।
সম্প্রতি প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ক্যানেলের দুই পাশে রাস্তা হিসেবে সমান রয়েছে। প্রকল্প এলাকায় নেই কোন সাইনবোর্ড।স্থানীয়রা বলেন, গত ৬ থেকে ৮ মাসেও কোন মাটির কাজ হয়নি রাস্তাটিতে। তাদের দাবী ক্যানেলের দুই পাশে রাস্তা হিসেবে ধরা হলেও তাদের কোন কাজে আসছে না রাস্তাটি।
তেতুঁলিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে তিরনইহাট ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া বাংকুর বাড়ি হইতে নতুন ব্রীজ হয়ে হাকিমপুর আব্দুল আজিজের বাড়ি পর্যন্ত ক্যানেলের দুই ধারে রাস্তা নির্মাণ ও মাটি ভরাট কাজের জন্য সাড়ে ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দের শর্তাবলীতে উল্লেখ ছিল, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ বাস্তবায়ন করতে হবে এবং প্রকল্পের বর্ণনাসহ যথাযথ সাইজের সাইনবোর্ড দৃশ্যমান স্থানে স্থাপন করার কথাও বলা হয়। গত বছরের অক্টোবর মাসে প্রকল্পের অর্ধেক ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। কিন্তু ৭ মাস পার হলেও কোন কাজ না করেই প্রকল্পের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসাইন গত মাসে চুড়ান্ত বিল উত্তোলন করেন।
স্থানীয় সচেতন ব্যক্তি আমজাদ ও বেলাল হোসেন বলেন, ক্যানেলে একটি ব্রীজ করে রেখেছে যেটা কোন কাজে আসসেনা। শুনেছি এবার ক্যানেলের দুপাশে রাস্তায় মাটি ভরাটের জন্য বরাদ্দ হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোন কাজ হয়নি আর কাজ হলেও মানুষ কোন সুযোগ সুবিধা পাবেনা।
অভিযুক্ত তিরনইহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসাইন বলেন, এ প্রকল্পের বিষয়টা তৎকালীন ডিসি ও ইউএনও স্যার জানেন। ক্যানেলের উপর ব্রীজ হয়েছিল কিন্তু কোন রাস্তা ছিল না। পরে ক্যানেলের দুপাশে চলাচলের রাস্তা করে দিয়েছি। এ প্রকল্প ওই কাজের জন্যই।
তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম শাহ বলেন, আমি এ উপজেলায় যোগদান করার আগেই ওই ক্যানালে ব্রীজ নির্মাণ হয়েছিল কিন্তু কোন রাস্তা ছিলনা। বিষয়টি খবর প্রকাশের পর দুদক অভিযান করে। পরে ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে ক্যানালের দুই পাশে চেয়ারম্যান মাটি ভরাট করে দেয়। ওই কাজের জন্য চলতি অর্থ বছরে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।





